দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাবনা থেকে কুড়িগ্রামে এসেছিল তিন কিশোরী। বাসে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পথ হারিয়ে ফেলে তারা। পরে সন্ধ্যার পর কুড়িগ্রাম শহরে ঘোরাঘুরির সময় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সন্দেহ ও তৎপরতায় তিন কিশোরীর সন্ধান মেলে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন কিশোরীকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তিন কিশোরী। তারা তিনজনই পাবনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও বন্ধু। তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি তিন কিশোরীর একজনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য হয়। এরপর তিন বন্ধু মিলে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, টিকটকের বিভিন্ন ভিডিও দেখা এবং বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ থেকেই তারা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতিও তাদের আগ্রহ ছিল বলে পুলিশ জানায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকালে স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাসে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছে তারা। সেখান থেকে সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর পথ হারিয়ে ফেলে তিন কিশোরী। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে তারা।
একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালসংলগ্ন একটি অপরিচিত এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল তিন কিশোরী। তাদের আচরণ ও গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর। পরে তিনি কৌশলে তিন কিশোরীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান এবং বিষয়টি তাঁর স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহমেদকে জানান।
খবর পেয়ে এসআই তাজউদ্দিন আহমেদ দ্রুত বাসায় গিয়ে কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে পাবনার ঠিকানা জানা যায়। পরে তিনি বিষয়টি কুড়িগ্রাম সদর থানায় জানান এবং পাবনা সদর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এদিকে তিন কিশোরী বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা। পুলিশও তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে।
এসআই তাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাস টার্মিনাল এলাকার সরকারি কোয়ার্টারের সামনে তিন কিশোরীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার স্ত্রী সন্দেহ করেন। পরে তাদের বাসায় নিয়ে বিষয়টি তাকে জানান। তিনি কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, এটি কুড়িগ্রামের কোনো ঘটনা নয়। পাবনা পুলিশকে আমরা সহযোগিতা করেছি। তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যে আই